×
ব্রেকিং নিউজ :
নির্বাচন–পরবর্তী দুই শতাধিক সহিংসতায় নিহত ৩, আহত তিন শতাধিক: এইচআরএসএস অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মত প্রকাশের জন্য কোনো সাংবাদিককে জেলে যেতে হয়নি: তথ্য উপদেষ্টা ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের কানাডার প্রতি ‘হস্তক্ষেপ দূর’ করতে সহযোগিত জোরদারের আহ্বান চীনের ওসমান হাদি হত্যা: সিআইডি’র তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ১৯ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্পের লড়াইয়ে ইউরোপকে পাশে চান রুবিও আজ ডা. শফিকুর ও নাহিদের বাসায় যাচ্ছেন তারেক রহমান মিনেসোটায় অভিবাসী ধরপাকড় ‘স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ’ : ওবামা মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্য ও বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ: আইন উপদেষ্টা এআইকে ‘অস্ত্র’ বানাচ্ছে সাইবার অপরাধীরা, মোকাবিলায় ইন্টারপোলের নীরব যুদ্ধ
  • প্রকাশিত : ১৯৭০-০১-০১
  • ১৩১৬ বার পঠিত
  • নিজস্ব প্রতিবেদক

মাত্র কয়েকদিন আগে জাপানে জি ২০-এর বৈঠকে যোগদান শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়া যান এবং নিজের উদ্যোগে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে দক্ষিণ ও উত্তর কোরিয়া সীমান্তে পানমুনজমে এক স্বল্পকালীন সাক্ষাতের ব্যবস্থা করেন। ট্রাম্পের অনুরোধে কিম এই সাক্ষাতে সম্মত হন এবং দু’জনের সাক্ষাৎ হয়।

এ সময় কিছুক্ষণের জন্য ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়া সীমান্ত পার হয়ে উত্তর কোরিয়ার মাটিতে পা রাখেন। তিনিই দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট যিনি এ কাজ করলেন।

এটা এক ব্যতিক্রমী ব্যাপার, কারণ ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলেও এখনও পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো শান্তি চুক্তি হয়নি।

এখনও তাদের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থা রয়েছে। তাদের আসল মতলব যাই হোক, মুখে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মাঝে মাঝে কিম জং উনের প্রশংসা করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে তিনবার সাক্ষাৎও হয়েছে।

 

লক্ষ করার বিষয় যে, ট্রাম্প যখন কিমের সঙ্গে এই সাক্ষাৎ করছেন এবং উত্তর কোরিয়ার মাটিতে পা রাখছেন ঠিক সেই মুহূর্তেই ২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়ার ওপর পরিশোধিত পেট্রল আমদানিতে যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তা লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে অভিযোগ করে।

শুধু তাই নয়, উত্তর কোরিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা জারি করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি ও ব্রিটেন এক যৌথ বিবৃতিতে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে আহ্বান জানিয়েছে। তাদের কাছে আহ্বান জানানো হয়েছে উত্তর কোরিয়ার কর্মীদের দেশে ফেরত পাঠানোর।

এই পরিস্থিতিতে এসব বিষয় উল্লেখ করে জাতিসংঘে উত্তর কোরিয়ার প্রতিনিধি এক বিবৃতি দিয়েছেন। এতে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে ‘সর্বরোগের মহৌষধ’ বলে যুক্তরাষ্ট্র মনে করে। এজন্য কথায় কথায় তারা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

এটা ওয়াশিংটনের জন্য ‘সম্পূর্ণ হাস্যকর’ (যুগান্তর, ৫ জুলাই, ২০১৯)। এই বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে কিমের দেখা-সাক্ষাৎ ও আলোচনা হলেও এখনও পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়া আক্রমণের বিষয়ে অটল রয়েছেন।

অন্য দেশের সঙ্গে স্বার্থের দ্বন্দ্ব হলেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন বেপরোয়াভাবে তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করছে এবং নিজেদের সামরিক শক্তির জোরে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার উদ্দেশ্যে অবরোধ করছে।

এটা শুধু উত্তর কোরিয়ার ক্ষেত্রেই হচ্ছে এমন নয়, এ মুহূর্তে তারা ভেনিজুয়েলা ও ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে অবরোধের মাধ্যমে তা কার্যকর করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া চীন, রাশিয়ার মতো শক্তিশালী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধেও তারা বিভিন্ন বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে, যদিও তারা ঘোষিত এই নিষেধাজ্ঞা মানে না। এমনকি তারা এই নিষেধাজ্ঞা তাদের ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী মিত্রদের ওপরও ক্ষেত্রবিশেষে আরোপ করে থাকে। ভেনিজুয়েলা ও ইরান থেকে তেল আমদানি বন্ধ করার জন্য তারা ভারতের ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর থেকে নিয়ে এখন পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পই নিজে যুদ্ধবাজ হওয়া সত্ত্বেও কোনো যুদ্ধ চান না! ‘শান্তির দূত’ হিসেবে যে তিনি যুদ্ধে উৎসাহী হন এমন নয়। আসলে আগে আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া ইত্যাদিতে যেভাবে তারা যুদ্ধ ও আক্রমণ করে এসেছে, তার ক্ষমতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর নেই।

এর জন্য যে সামরিক ব্যয় বহন করা দরকার, সে ক্ষমতা তাদের কমে এসেছে, যদিও সামরিক শক্তির জোরেই তারা এখনও পর্যন্ত সারা দুনিয়ার ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করছে। এ কারণে সরাসরি যুদ্ধের পরিবর্তে তারা এখন নিষেধাজ্ঞাকেই প্রধান অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করে তাদের বৈদেশিক নীতি এবং কূটনীতি পরিচালনা করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
#
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat