ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বুধবার হোয়াইট হাউসে বৈঠকে ইরানের সঙ্গে চলমান পারমাণবিক আলোচনায় কঠোর অবস্থান নিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চাপ দেবেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের অবস্থান আরও দৃঢ় করতে তড়িঘড়ি করে ওয়াশিংটনে পৌঁছান নেতানিয়াহু। ওয়াশিংটন থেকে বার্তাসংস্থ্ াএএফপি এ খবর জানায়।
হঠাৎ নির্ধারিত এই বৈঠক স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় শুরু হওয়ার কথা।
বৈঠকের আগের দিন ট্রাম্প বলেন, তেহরানকে পারমাণবিক চুক্তিতে রাজি করাতে মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় একটি মার্কিন ‘আর্মাডা’(রণতরীর বহর) পাঠানোর বিষয়টি তিনি বিবেচনা করছেন।
ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর এ নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসা নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়েও আরও কঠোর অবস্থান নিতে আহ্বান জানাবেন।
গত সপ্তাহে ওমানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করা তেহরান, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে সোমবার কূটনীতিতে ‘ধ্বংসাত্মক প্রভাব’ নিয়ে সতর্কবার্তা দেয়।
নেতানিয়াহুর ১৯ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ ফর গাজা বৈঠকে ওয়াশিংটনে আসার কথা ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা এগোতে থাকায় তিনি সফর এগিয়ে আনেন বলে জানা গেছে।
পারমাণবিক চুক্তির আশাবাদ ব্যক্ত করলেও মঙ্গলবার অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি অঞ্চলটিতে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ পাঠানোর কথা ভাবছেন।
তিনি বলেন, ‘হয় আমরা একটি চুক্তি করব, না হলে আগের মতো খুব কঠোর কিছু করতে হবে।’
ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের একটি আর্মাডা সেখানে যাচ্ছে। আরেকটিও যেতে পারে।’
গত জুনে ইরানের সঙ্গে ইসরাইলের ১২ দিনের যুদ্ধে ট্রাম্প তেহরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার নির্দেশ দেন।
তিনি ফক্স বিজনেসকে বলেন, যেকোনো চুক্তিতে ‘কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয়, কোনো ক্ষেপণাস্ত্র নয়’ — এই শর্ত থাকতে হবে।
ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের নেতারা চুক্তি করতে চাইলে সেটি ভালো চুক্তি হতে হবে। তিনি বলেন, তেহরান বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘খুব অসৎ আচরণ’ করেছে।
ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, তার আলোচনার ‘প্রথম ও প্রধান’ বিষয় হবে ইরান নিয়ে আলোচনা। পাশাপাশি, গাজা ও আঞ্চলিক অন্যান্য ইস্যুও আলোচনায় থাকবে।
তিনি বলেন, ‘আলোচনার নীতিমালা নিয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রেসিডেন্টের সামনে উপস্থাপন করব।’
নেতানিয়াহুর দফতর জানায়, তিনি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরবেন।
গত বছর দুই দেশের নজিরবিহীন যুদ্ধে ইসরাইলের উদ্বেগ চরমে পৌঁছায়। সে সময় ইরান ইসরাইলের ভূখণ্ডে সামরিক ও বেসামরিক এলাকায় দফায় দফায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য অস্ত্র নিক্ষেপ করে।
এ পর্যন্ত ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পরিধি পারমাণবিক কর্মসূচির বাইরে বাড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে ওয়াশিংটন চায় তেহরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনও আলোচনায় আসুক।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে বসতি স্থাপনকারীদের ফিলিস্তিনি মালিকদের কাছ থেকে সরাসরি জমি কেনার অনুমোদন দেওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে ক্ষোভ বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক হচ্ছে।
নেতানিয়াহুর ওয়াশিংটন সফরের আগে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা এ পদক্ষেপ অনুমোদন দেয়।
ট্রাম্প এ বিষয়টি বৈঠকে তুলবেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা সোমবার বলেন, ট্রাম্প পশ্চিম তীর ইসরাইলের অন্তর্ভুক্তিকে সমর্থন করেন না’ ও স্থিতিশীলতা চান। তবে তিনি ইসরাইল সরকারের পদক্ষেপের সরাসরি সমালোচনা থেকে বিরত থাকেন।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প পুনরায় দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে দুই নেতার এটি হবে ষষ্ঠ বৈঠক। এর মধ্যে পাঁচবার হোয়াইট হাউসে ও একবার ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের মার-আ-লাগো রিসোর্টে সাক্ষাৎ হয়েছে।
গত অক্টোবরে জেরুজালেমে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ট্রাম্প গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন।