×
ব্রেকিং নিউজ :
চট্টগ্রামের-১৬ আসনে জাতীয় সংসদ ও গণভোটের প্রস্তুতি সম্পন্ন সাতক্ষীরায় নির্বাচনের লক্ষে প্রশাসনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন : জেলা প্রশাসক সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান মনিরুল হক চৌধুরীর হবিগঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় বিএনপির শীর্ষ নেতারা কে কোথায় ভোট দেবেন রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্মাণে গণভোটে সক্রিয় অংশগ্রহণে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার গুলশান মডেল হাই স্কুল এন্ড কলেজে ভোট দেবেন তারেক রহমান ১২ ফেব্রুয়ারি অবাধ, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ভূমি ব্যবস্থাপনায় সরকারের ১০টি মাইলফলক অর্জন: এক ছাতার নিচে সব সেবা বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে দুর্নীতির কাঠামো ভেঙেছে অন্তর্বর্তী সরকার : উপদেষ্টা
  • প্রকাশিত : ২০২৬-০২-১০
  • ৬৬৬৫৪৬ বার পঠিত
  • নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের অন্যান্য স্থানের মতো বন্দরনগরী চট্টগ্রাম ও জেলার ১৬ সংসদীয় আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের জন্য শেষ সময়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো.বশির আহমেদ।

তিনি জানান, ভোট কেন্দ্রে সরঞ্জাম পাঠানো থেকে শুরু করে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিভিন্ন কেন্দ্রে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে ভোটের সরঞ্জাম। একটি গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে তাদের কোনো ঘাটতি নেই। নির্বাচন উপলক্ষে শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে মোট ১৪২জন নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন।

সম্ভাব্য নাশকতা এড়াতে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে চট্টগ্রামের প্রধান সড়কগুলোতে সাঁজোয়া যান নিয়ে সেনাসদস্যদের সতর্ক টহল দিতে দেখা গেছে। এছাড়া ভোটকেন্দ্রসহ নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে মহড়া দিচ্ছেন পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও নৌবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয় সুত্র জানায়, আগামীকাল বুধবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়াম থেকে কেন্দ্রভিত্তিক সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের কাছে নির্বাচনি সরঞ্জাম বিতরণ শুরু হবে। সব প্রয়োজনীয় নির্বাচনি উপকরণ ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪৩ হাজার ৭২৫ জন ভোট গ্রহণ কর্মকর্তার নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. বশির আহমেদ  জানান, ব্যালট পেপার, স্বচ্ছ ব্যালট বক্স, চটের থলি, স্ট্যাপলার মেশিন ও পিন, অমোচনীয় কালির কলম, রাবারের সিলমোহর, মার্কিং সিল, স্ট্যাম্প প্যাড, গালা, চার্জার লাইট, মনিহারি সামগ্রীসহ অন্যান্য উপকরণ আগামীকাল সকাল ১০টা থেকে চট্টগ্রাম মহানগরীর ভোট কেন্দ্র গুলোতে বিতরণ করা হবে। উপজেলার ভোট কেন্দ্রগুলোর এসব সরঞ্জাম ইতোমধ্যে সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা ইউএনওদের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রামে মোট ভোট কেন্দ্র ১ হাজার ৯৬৫টি। এরমধ্যে ৬৫৩টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন।

তিনি আরও জানান, নির্বাচন সংক্রান্ত সব কার্যক্রম এবং ফল ঘোষণা উপলক্ষে শনিবার থেকেই চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়াম এলাকা নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি ও পুলিশের পৃথক বাহিনী মোতায়েন থাকবে বলেও জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন মিঞা বলেন, সময়ের সীমাবদ্ধতা মাথায় রেখে ভোটারদের প্রত্যাশা অনুযায়ী নির্বাচন সম্পন্ন করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের তত্ত্বাবধানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিরলসভাবে কাজ করছেন।

নির্বাচনে ১১৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ২৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। ভোটাররা নিরাপদ পরিবেশে ভোট কেন্দ্রে এসে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারবেন বলে জানান তিনি।

এখন পর্যন্ত নির্বাচনি পরিবেশ অত্যন্ত ভালো ও সন্তোষজনক উল্লেখ করে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন বলেন, বড় ধরনের কোনো নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, অপরাধ দমন কার্যক্রম এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রমের কারণে নির্বাচন-পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা নেই।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সুত্র জানায়, চট্টগ্রামে মোট ভোটার সংখ্যা ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৭৭ জন, নারী ভোটার ৩১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৭০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৭০ জন। প্রত্যেক ভোট কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৩ থেকে ১৮ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ভোট কেন্দ্রের দায়িত্বে অস্ত্রসহ পুলিশ, অস্ত্রসহ আনসার-ভিডিপি সদস্য, লাঠিসহ পুরুষ ও মহিলা আনসার-ভিডিপি’র সংখ্যা ১০ জন, গ্রাম পুলিশ থাকবে ১ থেকে ২ জন। এছাড়া পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, কোস্ট গার্ড থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ ভোট কেন্দ্রগুলোতে ১৬ জন করে আনসার ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং পুলিশ বডিওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবেন। নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের জন্য ১ হাজার ৯৬৫ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ১২ হাজার ৫৯৫ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং ২৯ হাজার ১৬৫ জন পোলিং কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে। 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
#
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat