×
ব্রেকিং নিউজ :
ধর্মমন্ত্রীর ত্বরিত উদ্যোগে দেশে ফিরলেন আটকে পড়া ৩৩ উমরাহ যাত্রী এপ্রিলের মধ্যে বোয়িং চুক্তি, ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনাল চালুর লক্ষ্য: মিল্লাত উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি গণসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি : চসিক মেয়র রাজবাড়ীতে জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ সাতক্ষীরায় পেশাজীবী গাড়ি চালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কর্মশালা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের বৈঠক নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন সমস্যা সমাধানে সরকারের বহুমুখী উদ্যোগ : গৃহায়ন মন্ত্রী উপসাগরীয় সংঘাত নিরসনে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান বাংলাদেশ-ওমানের বাংলাদেশ-ভারত অংশীদারিত্বে চিকিৎসা পর্যটনে গতি আসবে সরকারের এক ইঞ্চি জমির রাজস্বও ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না : ভূমি প্রতিমন্ত্রী
  • প্রকাশিত : ২০১৯-০৪-১৮
  • ৩৩৩ বার পঠিত
  • নিজস্ব প্রতিবেদক
সাতক্ষীরার দেবহাটায় সুইসাইড নোট লিখে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা


মোঃ সদরুল কাদির (শাওন), সাতক্ষীরা :- পেঁচিয়ে জান্নাতুল মাওয়া মুক্তি (১৬) নামের দশম শ্রেনীর এক স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।

বৃহষ্পতিবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে একটি চিঠি লিখে রেখে ঘরের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে সে। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে স্কুলছাত্রী মুক্তির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে দেবহাটা থানা পুলিশ। জান্নাতুল মাওয়া মুক্তি উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের খাঁসপাড়া এলাকার মুনসুর আলী সরদারের মেয়ে এবং পারুলিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর ছাত্রী।

আত্মহত্যার আগে মুক্তির লেখা চিঠি পড়ে অনেকেই ধারনা করছেন যে বাবা-মায়ের ওপর অভিমান করেই আত্মহত্যা করেছে সে। তার লেখা আড়াই পৃষ্ঠার চিঠিটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো, –
“আমার মৃত্যুর জন্য কেহ দায়ী নহে। সবাই আমাকে ক্ষমা করিয়া দিবেন। প্রত্যেকে নামাজ পড়ে আমার জন্য দোয়া করবেন। আমার কাছে যা কিছু টাকা-পয়সা ছিল তা আমার টেবিলের ওপর রেখে গেলাম। আমার সব কিছু দিপ্তির (ছোট বোন) জন্য রেখে গেলাম। সব কিছু থাকলেও শুধু আমিই পৃথিবীতে থাকলাম না। মা-বাবা তোমাদের কাছে একটা জিনিস দাবী করলাম,সেটা হলো ক্ষমা। তোমরা আমাকে ক্ষমা করে দিও। নামাজ পড়ে আমার জন্য দোয়া করো। আর দিপ্তিকে আদর, মায়া-মমতা, নয়নের মনি এবং অল্প শাসনের মাধ্যমে ওকে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবা। আমি আসলে খারাপ। দিপ্তি অনেক ভালো মেয়ে। আমার অনুপস্থিতিতে ওর যেন কোন কষ্ট না হয় সেদিকে খেয়াল রেখো। কষ্ট কি জিনিস এটা যেন আমার ছোট বোন বুঝতে না পারে। দিপ্তি বড় হয়ে উচ্চ পদের চাকরি করে। তোমরা ওকে সাহায্য করো। আমার জন্য পৃথিবীটা অনেক কঠিন। বেচে থাকার কোন দরকার ছোটবেলা থেকেই আমার ছিলোনা। কখনো ভালো মেয়ে হয়ে বাঁচতে পারতাম না। তাইতো চলে গেলাম ঐ পাড়ে। তোমাদের ছেড়ে যেতে খুব কষ্ট হচ্ছে আমার। তবুও পারলাম না নিজেকে আটকাতে ঐ মৃত্যুর হাত থেকে। আজ হোক বা কাল চলে তো আমাকে যেতেই হতো। তাই না হয় আজই চলে গেলাম। বাবা-মা তোমাদের আর কষ্ট করে আমাকে দেখতে হবেনা। সবাই ভালো থেকো তোমরা। আমার পাড়া-প্রতিবেশী, স্কুলের শিক্ষক , আমার বান্ধবী আর সকল মানুষকে খুব মিস করছি। তাদের সবার জন্যও কষ্ট হচ্ছে আমার। ঠিকই নিজের ভুল বুঝতে পারলাম,কিন্তু আমার অনেক দেরী হয়ে গেলো। আর বেশী কিছু লিখলাম না। কারন প্রত্যেকটি কথা লিখতে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। শেষ বার একটা কথা বলবো যে, মা-বাবা ও বোন তোমরা আমাকে ক্ষমা করো। আর দিপ্তিকে বলো লক্ষীসোনার মতো পড়াশুনা করতে। আমার আয়ু এই পর্যন্তই ছিলো। আমার মৃত্যুর সময়- সকাল ১০.৪৫। জান্নাতুল মাওয়া মুক্তি।”

এব্যাপারে দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিপ্লব কুমার সাহা বলেন, আত্মহত্যার খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পৌছে স্কুলছাত্রী মুক্তির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করেছে পুলিশ। এঘটনায় পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান ওসি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
#
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat