সাংস্কৃতিক খাতের উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
আজ সকাল ৮টায় বগুড়া শহরের পৌর পার্ক ও শহীদ টিটু মিলনায়তন চত্বরে পাঁচদিনব্যাপী বৈশাখি মেলার উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।
বগুড়া সাংস্কৃতিক ফোরাম ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে আয়োজিত মেলায় সহযোগিতা করছে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বগুড়া পৌরসভা ও জেলা পরিষদ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বগুড়াকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরো তুলে ধরতে জেলার সাংস্কৃতিক খাতের উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
শিল্পকলা একাডেমির সংস্কার কাজ দ্রুত শুরু হবে এবং শিল্পীদের সুবিধার্থে একটি আধুনিক রেকর্ডিং রুম নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, সরকারের নেওয়া উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। ঢাকা-সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেললাইন নির্মাণকাজও প্রায় শেষের পথে। এছাড়াও বগুড়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের অপেক্ষা।
তিনি বলেন, বগুড়া সিটি করপোরেশন গঠনের প্রস্তাব প্রি-একনেক বৈঠকে অনুমোদন পেয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২০ এপ্রিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সিটি করপোরেশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন।
দীর্ঘ ১৭ বছর উন্নয়নবঞ্চিত বগুড়ার জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও এসময় তুলে ধরেন তিনি। এ আয়োজনের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
আজকের এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা।
বগুড়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক করতোয়া সম্পাদক মোজাম্মেল হক লালুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম, বগুড়া সাংস্কৃতিক ফোরামের সমন্বয়কারী কে এম খায়রুল বাশার, প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানু ও সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ, জেলা কালচারাল অফিসার মাহমুদুল হাসান লালনসহ স্থানীয় বিশিষ্টজনরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বগুড়ার ৪০ জন শিল্পীর সমবেত কণ্ঠে বর্ষবরণের গান পরিবেশিত হয়। পাশাপাশি বৈশাখি শোভাযাত্রা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং লাঠিখেলার আয়োজন করা হয়।
সকালে মেলা মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে হিন্দোল একাডেমি, ইয়ুথ কয়্যার, ‘ভোর হলো’, দল ‘অন্যরকম’ ও কলেজ থিয়েটারসহ বিভিন্ন সংগঠন।
আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট পলাশ খন্দকার জানান, পাঁচ দিনব্যাপী এ মেলায় দূর-দূরান্ত থেকে কারুশিল্প ও হস্তশিল্পের স্টল বসেছে। প্রতিদিনই থাকবে নানা আয়োজন।
সবার অংশগ্রহণে মেলাটি এক অসাধারণ মিলনমেলায় পরিণত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।