×
ব্রেকিং নিউজ :
নির্বাচন–পরবর্তী দুই শতাধিক সহিংসতায় নিহত ৩, আহত তিন শতাধিক: এইচআরএসএস অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মত প্রকাশের জন্য কোনো সাংবাদিককে জেলে যেতে হয়নি: তথ্য উপদেষ্টা ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের কানাডার প্রতি ‘হস্তক্ষেপ দূর’ করতে সহযোগিত জোরদারের আহ্বান চীনের ওসমান হাদি হত্যা: সিআইডি’র তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ১৯ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্পের লড়াইয়ে ইউরোপকে পাশে চান রুবিও আজ ডা. শফিকুর ও নাহিদের বাসায় যাচ্ছেন তারেক রহমান মিনেসোটায় অভিবাসী ধরপাকড় ‘স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ’ : ওবামা মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্য ও বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ: আইন উপদেষ্টা এআইকে ‘অস্ত্র’ বানাচ্ছে সাইবার অপরাধীরা, মোকাবিলায় ইন্টারপোলের নীরব যুদ্ধ
  • প্রকাশিত : ২০২৪-১১-৩০
  • ৩৪৪৫৫৩৪ বার পঠিত
  • নিজস্ব প্রতিবেদক
অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন জানিয়ে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের সব অপচেষ্টা রুখে দিতে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন দেশের ৫০ জন বিশিষ্ট নাগরিক।
আজ শনিবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এ আহ্বান জানান।শনিবার (৩০ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বিবৃতিটি শেয়ার করেন।
এতে বলা হয়, গত ৫ আগস্ট ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মুখে স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটে এবং শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে যান। এর  মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এক নতুন সূচনার সাক্ষী হয়।
এরপর অধ্যাপক ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসন সমাজের সব স্তরের ব্যাপক সমর্থন লাভ করে। দেশের সামনে এখন জরুরি কাজ হলো রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা এবং বিশ্বাস পুনঃস্থাপন, অর্থনীতির পুনর্গঠন এবং একটি গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথ তৈরিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই প্রেক্ষাপটে পতিত শাসনের শক্তিগুলো তাদের বিদেশি পৃষ্ঠপোষকদের প্রকাশ্য এবং গোপন সমর্থনে দেশে বিভাজন সৃষ্টিতে সক্রিয় রয়েছে। তারা মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে এবং সহিংসতা উসকে দিচ্ছে। বিশেষ করে, বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচারের অতিরঞ্জিত, বানোয়াট এবং ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা প্রতিবেদন প্রচারের মাধ্যমে একটি সম্মিলিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এই প্রপাগান্ডার ফলে ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রামে সাইফুল ইসলাম নামে একজন সরকারি কৌঁসুলিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
এতে বলা হয়, আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাই এবং দ্রুত ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করি। এই শোকাবহ পরিস্থিতি এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে। যে কোনো সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াবে। তবে বাংলাদেশের জনগণ সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করেছে এবং সহিংসতা বৃদ্ধির যে কোনো চেষ্টাকে দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করেছে। হত্যাকারীরা কোনো সম্প্রদায়, ধর্ম বা গোষ্ঠীর প্রতিনিধি নয়। বরং তারা শেখ হাসিনা ও তার পৃষ্ঠপোষকদের এজেন্ট হতে পারে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, যদি তদন্তে এটি প্রমাণিত হয়, তবে এটি নিশ্চিত করবে যে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জাতীয় ঐক্য, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি।
পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল। ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী এখনো মুক্ত, এবং তার সহযোগীরা তাদের অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের সুবিধা ভোগ করছে। ভারতে তার নির্জন আশ্রয় থেকে হাসিনা বাংলাদেশকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শন করতে হবে, যখন আমরা বাংলাদেশের পুনর্গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছি।
বিবৃতিতে তারা বলেন, যে কোনো উত্তেজনাপূর্ণ আহ্বান বা কার্যকলাপ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করতে পারে এবং পতিত স্বৈরাচারীকে সুবিধা দিতে পারে। এছাড়া হাসিনা শাসনের রেখে যাওয়া বিশাল অর্থনৈতিক গহ্বর থেকে আমরা এখনো বেরিয়ে আসতে পারিনি। সাম্প্রদায়িক বা রাজনৈতিক সহিংসতা আমাদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরো খারাপ করবে এবং এই মুহূর্তে অতি প্রয়োজনীয় দেশিও বিদেশি বিনিয়োগকে ভীতি প্রদর্শন করবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা সব বাংলাদেশিকে, ধর্ম, রাজনৈতিক মতাদর্শ, আদর্শ, লিঙ্গ, বয়স বা যে কোনো বৈশিষ্ট্যের পার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে এই হুমকির মুখে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানাই। আমরা বাংলাদেশের ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠস্বরের প্রতি আমাদের সংহতি প্রকাশ করছি।
বিবৃতিদাতাদের মধ্যে আছেন- বাংলাদেশ গবেষণা বিশ্লেষণ ও তথ্য নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক ড. রুমি আহমেদ খান, ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স ফর ডেমোক্রেসির প্রতিষ্ঠাতা ড. শামারুহ মির্জা, লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট ডা. শফিকুর রহমান, আইনজীবী এহতেশামুল হক, অর্থনীতিবিদ ও লেখক মো. জ্যোতি রহমান, বিজ্ঞানী ও এক্টিভিস্ট ড. ফাহাম আবদুস সালাম, প্রকৌশলী নুসরাত খান মজলিশ, বিজ্ঞানী মো. নুসরাত হোমায়রা, ড. সৈয়দ রউফ (পাবলিক সার্ভিস, কানাডা), অর্থনীতিবিদ ও সামাজিক উদ্যোক্তা নাজিয়া আহমেদ, লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট মেজর শাফায়াত আহমদ (অব.), অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও প্রকৌশলী আহমদ হাবিবুর রহমান, শিক্ষাবিদ ও মানবাধিকার কর্মী সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া, সিডনি পলিসি অ্যানালাইসিস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ড. মোবাশার হাসান,
অস্ট্রেলিয়ার পাবলিক সার্ভেন্ট ইফাত তাবাসসুম, অধ্যাপক ড. সাইফুল খোন্দকার, ডেটা ইঞ্জিনিয়ার ও মানবাধিকার কর্মী রূপম রাজ্জাক(যুক্তরাজ্য), ইনভেস্টমেন্ট র্স্ট্যাটেজিস্ট ও ফিন্যান্স প্রফেশনাল ড. মোহাম্মদ মিয়া প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
#
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat