×
ব্রেকিং নিউজ :
নির্বাচন–পরবর্তী দুই শতাধিক সহিংসতায় নিহত ৩, আহত তিন শতাধিক: এইচআরএসএস অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মত প্রকাশের জন্য কোনো সাংবাদিককে জেলে যেতে হয়নি: তথ্য উপদেষ্টা ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের কানাডার প্রতি ‘হস্তক্ষেপ দূর’ করতে সহযোগিত জোরদারের আহ্বান চীনের ওসমান হাদি হত্যা: সিআইডি’র তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ১৯ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্পের লড়াইয়ে ইউরোপকে পাশে চান রুবিও আজ ডা. শফিকুর ও নাহিদের বাসায় যাচ্ছেন তারেক রহমান মিনেসোটায় অভিবাসী ধরপাকড় ‘স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ’ : ওবামা মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্য ও বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ: আইন উপদেষ্টা এআইকে ‘অস্ত্র’ বানাচ্ছে সাইবার অপরাধীরা, মোকাবিলায় ইন্টারপোলের নীরব যুদ্ধ
  • প্রকাশিত : ২০১৮-০৪-০৬
  • ৮৭৩ বার পঠিত
  • নিজস্ব প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:- পাকিস্তানে তালেবান এবং হাক্কানি নেটওয়ার্কের মতো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সেনা অভিযানের কারণে নিরাপদ পরিবেশ ফিরে এসেছে বলে দেশটির সরকার দাবি করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, পাকিস্তান সরকার জঙ্গি তৎপরতা এবং সন্ত্রাস নির্মূলে কোন ভূমিকাই রাখছে না। খবর বিবিসির। আসলে দেশটিতে পরিস্থিতি কী পাল্টেছে? নয় বছর আগে শ্রীলংকার খেলোয়াড়দের বাস লক্ষ্য করে জঙ্গি হামলায় নিহত হয়েছিলেন কমপক্ষে ৮ জন। বাসের চালক গুলিবিদ্ধ হলেও তিনি বাসটি চালিয়ে যাওয়ায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন ক্রিকেটাররা। সেখানেই এবার অনুষ্ঠিত হয়ে গেল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ। আর তা নিয়ে লোকজনের মাঝে ছিল ব্যাপক উৎসাহ। চলতি মাসের এক, দুই ও তিন তারিখে স্বাগতিক দেশের বিরুদ্ধে তিনটি ম্যাচ খেলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট দলের ওপর জঙ্গি হামলার পর এই প্রথমবারের মতো পাকিস্তানে মাটিতে আন্তর্জাতিক কোনো ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাকিস্তান যে এখন আগের চেয়ে অনেক নিরাপদ তার একটা ইঙ্গিত পাওয়া যায় লাহোরের জমজমাট এই ক্রিকেট স্টেডিয়াম দেখে। এছাড়া, গত সপ্তাহেই সোয়াত উপত্যকায় নিজ বাড়ি ঘুরে গেছেন নোবেলজয়ী মালালা ইউসূফজাই। এই শহরেই পাঁচ বছর আগে তালেবান হামলার শিকার হয়েছিলেন কিশোরী মালালা। ক্রিকেট ম্যাচ এবং মালালার আগমন দুটি ঘটনাই পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের ইঙ্গিত দেয়। সরকারও বলছে, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী জঙ্গি তালেবান গোষ্ঠীগুলোর অনেককে হত্যা করেছে। অথবা এসব গোষ্ঠীর বেশিরভাগ সদস্যকে পালাতে বাধ্য করেছে। আর সে কারণে এই পরিবর্তন এসেছে। তবে পাকিস্তানে নিরাপত্তার পরিবেশ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণে ছিল ক্ষোভের সুর। তার মতে, পাকিস্তান সরকার সরকার জঙ্গি তৎপরতা বা সন্ত্রাস নির্মূলে কোন ভূমিকাই রাখছে না। ‘পাকিস্তানকে আমরা সন্ত্রাস নির্মূলে কোটি কোটি ডলার সহায়তা দিচ্ছি। অথচ তারা সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিচ্ছে। অবশ্যই এই পরিস্থিতির পরিবর্তন আনতে হবে।’ তবে ট্রাম্পের এমন দাবির বিরোধিতা করেছে পাকিস্তান। দেশটি বলেছে, চার বছর ধরে তালেবান এবং হাক্কানি নেটওয়ার্কের মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ঘাঁটি লক্ষ্য করে সেনা অভিযানে পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গেছে। বিদেশি সাংবাদিকদের পক্ষে মাঠ পর্যায়ের এসব তথ্য নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তবে পাকিস্তানের সীমান্ত অঞ্চলের একজন সাংবাদিক রহিম মওলা ইউসূফজাই মনে করেন, পরিস্থিতি বদলেছে। ‘হাক্কানি নেটওয়ার্ক, তালেবানের মতো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো এ অঞ্চলে সক্রিয় থাকলেও সাম্প্রতিক সেনা অভিযানে তারা বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে যায়। আগে তাদের নেতৃত্ব মূলত এখান থেকেই পরিচালিত হতো। তবে এখন তারা আর আগের মতো সংগঠিত নেই।’ সীমান্ত অঞ্চলের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানায়, সেনা অভিযানের কারণে এখন পর্যন্ত সেখানকার ৯০ হাজার বেসামরিক নাগরিক বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের ভীড়ে জঙ্গি নেতারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আফগানিস্তানে আশ্রয় নিতে পারে। এই ধারণার ওপর ভর করে পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে ড্রোন নিয়ে হামলা চালাতে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এতে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে বলে জানান মধ্যপ্রাচ্য ইতিহাস বিষয়ক মার্কিন অধ্যাপক লরেন্স ডেভিডসন। ‘মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জঙ্গি নেতাদের এক এক করে হত্যা করা হচ্ছে। তবে এখানে বেসামরিক নাগরিক হতাহতের বিষয়টি আড়ালেই থেকে যাচ্ছে। মার্কিন গণমাধ্যমে এগুলো সেভাবে প্রকাশ পায় না।’ এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুই দেশের অরক্ষিত সীমান্ত পয়েন্টগুলো। আড়াই হাজার কিলোমিটারের এই সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ কঠিন হলেও কাজ করতে শুরু করেছে পাকিস্তান সরকার। সাংবাদিক ইউসুফজাই জানিয়েছেন, সীমান্ত নির্মাণ করতে গিয়েও দেশটির সেনাবাহিনী হামলার শিকার হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
#
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat