×
ব্রেকিং নিউজ :
চলতি অর্থবছরে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার দক্ষ জনশক্তি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশই দেশের সমৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি : শ্রমমন্ত্রী জলবায়ু-সহিষ্ণুতা বৃদ্ধিতে আইএফআরসির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্ব চান শামা ময়মনসিংহে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘ক্লিন সানডে’ কর্মসূচি পালিত পঞ্চপল্লী প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ বিতরণ চা শিল্পের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর প্রকৃত দেশপ্রেমিক কখনো দুর্নীতিবাজ হতে পারেন না: বিমানমন্ত্রী জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়তে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে : আইনমন্ত্রী বঙ্গভবন ছাড়লেন সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এসডিজি জাতীয় প্রচার অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারকে ইউএনওপিএস-এর আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ
  • প্রকাশিত : ২০২১-০৯-১২
  • ৭১৭ বার পঠিত
  • নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশের মতো প্রাণ ফিরেছে টাঙ্গাইলের স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। শিক্ষার্থীদের কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে দীর্ঘদিনের নির্জীব ক্যাম্পাস। অনেকদিন পর সহপাঠীদের কাছে পেয়ে আবেগে আপ্লুত শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফিরেছে প্রাণের সঞ্চার। এমন চিত্র সব জায়গায় দেখা গেলেও রয়েছে কিছু ভিন্ন চিত্র। যেখানে স্কুলের শ্রেণী কক্ষে পানি প্রবেশ ও স্কুলে যাওয়ার কোন রাস্তা না থাকায় বসত বাড়ির কক্ষে, উঠানে ও প্রতিষ্ঠানের ছাদেও ক্লাস চলছে।
টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাশড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাঠে ও শ্রেণী কক্ষে পানি উঠায় বাড়ির উঠানে পাঠদান করছে শিক্ষার্থীরা। এই স্কুলের শিক্ষার্থীদের যাওয়ার কথা ছিল স্কুলে। কিন্তু স্কুলে বন্যার পানি থাকায় তারা স্কুলের পার্শ্ববর্তী বাড়িতে পাঠদান করছেন। 
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাসাইল সদর ইউনিয়নের রাশড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের জমিদাতা হাজী নজির হোসেনের বাড়ির উঠানে ও ঘরের ভিতর পাঠদান শুরু করেছেন। সকালে এই স্কুলের শিক্ষার্থীরা নিজেরাই নৌকা চালিয়ে পিঠে ব্যাগ, মুখে মাস্ক পড়ে প্রবেশ করছে ওই বাসায়। এরপর তারা হাত ধুয়ে বাড়ির উঠানে ও ঘরে প্রবেশ করেন। বসার ক্ষেত্রেও একজন অপরজন থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে ছিল। 
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার জানান, ক্লাসে এসে আমি খুবই খুশি। দীর্ঘদিন পর শিক্ষক ও বন্ধু-বান্ধবীদের সঙ্গে দেখা হলো। আমি নৌকা নিয়ে ক্লাস করতে এসেছি। আমাদের বিদ্যালয়ে পানি উঠার কারণে আমরা এখন হাজী নাজির দাদার বাড়িতে ক্লাস করছি। বন্যার পানি থাকায় আমাদের গ্রামের সব সড়ক ডুবে গেছে। এজন্য নৌকা ছাড়া আর বিকল্প উপায় নাই। পঞ্চম শ্রেণির আরেক ছাত্র জামিল হাসান বলেন, আমাদের এলাকা নিচু হওয়ায় বন্যা হলেই রাস্তা ঘাটে পানি উঠে যায়। নৌকা ছাড়া আমরা চলতে পারি না। আমাদের স্কুলেও পানি উঠেছে। তাই আমাদের বিদ্যালয়ের পাশের বাড়িতে ক্লাস করছি। তবে নিজেদের স্কুলে ক্লাস ও মাঠে খেলতে পারলে অনেক ভাল লাগতো। 
বাসাইল রাশড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হোসনে আরা আক্তার পপি বলেন, বিদ্যালয়ে পানি থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। করোনাভাইরাসের কারণে দেড় বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। দীর্ঘ দেড় বছর পর বিদ্যালয় খুলেছে। কোমলমতি শিশুদের আজকে আনন্দের দিন ছিল। কিন্তু সেই আনন্দদায়ক দিনটিকে উপভোগ করার সুযোগ করে দিতে পারিনি। বিদ্যালয়ে পানি থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে পাঠদান শুরু করতে পারিনি। বাড়ির উঠানে ও ঘরের ভিতরে পাঠদান করতে হচ্ছে। এখনো বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষে ২-৩ ফিটের মতো পানি রয়েছে। 
বাসাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সদানন্দ পাল জানান, উপজেলায় ৭৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এরমধ্যে ৪৯টিতে বন্যার পানি উঠেছিল। বন্যার পানি কমায় পাঁচটি বিদ্যালয়ের মধ্যে ২টি বিদ্যালয়ের পানি নেমে গেছে। বাকি ৩টি বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষে পানি থাকায় ২টি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় এবং একটি বিদ্যালয়ের ক্লাস বাড়ির উঠানে ও ঘরের ভিতরে চলছে। 
টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় মোট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে ২ হাজার ৪০টি। এর মধ্যে মির্জাপুরে ছয়টি, বাসাইলে পাঁচটি, নাগরপুরে দুইটি, কালিহাতীতে একটি এবং গোপালপুরে একটি বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষ, মাঠ ও স্কুলে যাওয়ার পথে বন্যার পানি রয়েছে। এই ১৫টি বিদ্যালয় দূর্গম এলাকায় হওয়ায় প্রথম দিন পাঠদান হয়নি। 
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা খানম জানান, যেসব এলাকার স্কুলগুলো থেকে বন্যার পানি নেমে গেছে সেগুলোতে নির্দেশনা অনুযায়ী ক্লাস চলবে। যেসব বিদ্যালয়গুলোতে এখনও পানি রয়েছে সেগুলোর বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাকি স্কুল, কলেজে স্বাস্থ্য বিধি মেনে পাঠদান চলছে।  

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
#
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat