×
ব্রেকিং নিউজ :
নির্বাচন–পরবর্তী দুই শতাধিক সহিংসতায় নিহত ৩, আহত তিন শতাধিক: এইচআরএসএস অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মত প্রকাশের জন্য কোনো সাংবাদিককে জেলে যেতে হয়নি: তথ্য উপদেষ্টা ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের কানাডার প্রতি ‘হস্তক্ষেপ দূর’ করতে সহযোগিত জোরদারের আহ্বান চীনের ওসমান হাদি হত্যা: সিআইডি’র তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ১৯ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্পের লড়াইয়ে ইউরোপকে পাশে চান রুবিও আজ ডা. শফিকুর ও নাহিদের বাসায় যাচ্ছেন তারেক রহমান মিনেসোটায় অভিবাসী ধরপাকড় ‘স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ’ : ওবামা মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্য ও বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ: আইন উপদেষ্টা এআইকে ‘অস্ত্র’ বানাচ্ছে সাইবার অপরাধীরা, মোকাবিলায় ইন্টারপোলের নীরব যুদ্ধ
  • প্রকাশিত : ২০২৪-০২-১৮
  • ৪৩৪৬১৬ বার পঠিত
  • নিজস্ব প্রতিবেদক
সংবাদপত্রে কর্মরত সাংবাদিক ও কর্মচারীদের আয়কর প্রান্তিক সুবিধা হিসেবে মালিক পক্ষ দেবেন এ সংক্রান্ত হাইকোর্ট রায় বিষয়ে আনা লিভ টু আপিলে নিউজ পেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (নোয়াব) বক্তব্য শুনবেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ।
প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ বেঞ্চ বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্ট রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে আনা পৃথক লিভ টু আপিল শুনানিতে নোয়াবের বক্তব্য শুনবেন বলে আজ আদেশ দেন।
নোয়াবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে এ বিষয়ে নোটিশ ইস্যু করতে বলা হয়েছে। আগামী ২১ এপ্রিল আইনজীবীর মাধ্যমে নোয়াবকে বক্তব্য আদালতে উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র এডভোকেট ব্যারিস্টার সালাহউদ্দিন দোলন। তাকে সহযোগিতা করেন এডভোকেট এস.এম মাহিদুল ইসলাম সজিব, এডভোকেট তোফায়েল আহমদ ও দিদারুল আলম দিদার। 
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন এটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি এটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস।
সিনিয়র এডভোকেট ব্যারিস্টার সালাহউদ্দিন দোলন বলেন, সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের আয়কর এবং আনুতোষিক সংক্রান্ত মন্ত্রীসভা কমিটির সুপারিশ অবৈধ ঘোষণার  হাইকোর্ট রায়ের পক্ষে আমরা বক্তব্য পেশ করেছি। বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সংক্ষুব্ধ হওয়ার কোন কারণ নেই বলে দাবী করেন তিনি। সাংবাদিকদের আয়কর সাংবাদিকরাই প্রদান করে থাকেন। প্রাপ্ত সুযোগ সুবিধার অনুকূলে সাংবাদিক ও প্রেস শ্রমিকদের যে আয়কর হয় তা প্রান্তিক সুবিধা বা প্রিঞ্জ বেনেফিট হিসেবে প্রদান করেন মালিকপক্ষ বা কর্তৃপক্ষ। এটি অষ্টম ওয়েজবোর্ড পর্যন্ত বহাল ছিল। নবম ওয়েজবোর্ডও তা বহাল রেখে সুপারিশ করে।  
এডভোকেট সালাহউদ্দিন দোলন বলেন, রিট মামলায় নিউজ পেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (নোয়াব) হাইকোর্টে রিপ্রেজেন্ট করেননি। বিষয়টি নিয়ে আদেশ দিতে নোয়াব তথা মালিকপক্ষের বক্তব্য শুনবেন সর্বোচ্চ আদালত। নোয়াবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নোটিশ করে আদেশ দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। আইনজীবীর মাধ্যমে তাদেরকে বক্তব্য পেশ করতে হবে। ২১ এপ্রিল পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে।
গত বছরের ২৪ জুলাই সংবাদপত্রের সাংবাদিক ও কর্মচারীদের নবম ওয়েজবোর্ডে গ্র্যাচুইটি ও আয়কর সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার সুপারিশ অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায় স্থগিত না করে আপিল বিভাগে পাঠিয়ে দেন চেম্বার আদালত।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারপক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে চেম্বার জজ বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন। সেদিন আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল শেখ সাইফুজ্জামান (জামান)। রিট পিটিশনার বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সিনিয়র  এডভোকেট ড. কাজী আকতার হামিদ। তাকে সহায়তা করেন দিদারুল আলম দিদার।
সিনিয়র এডভোকেট সালাহউদ্দিন দোলন আজ বলেন, সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের আয়কর ও আনুতোষিক সংক্রান্ত দুটি সুপারিশের বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে ২০২২ সালের ৬ নভেম্বর রায় দেন হাইকোর্ট। ফলে সাংবাদিক ও কর্মচারীদের আয়কর আগের মতোই মালিক বা কর্তৃপক্ষকেই পরিশোধ করতে হবে। পরে হাইকোর্ট রায়ের বিরুদ্ধে সরকার পক্ষে পৃথক আবেদন দাখিল করা হয়। 
ব্যারিস্টার সালাহউদ্দিন দোলন বলেন, আমরা আদালতকে বলেছি- সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের আয়কর ও আনুতোষিক বিষয়ে ইতোপূর্বে আপিল বিভাগের রায় রয়েছে। সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের আয়কর ও আনুতোষিক নিয়ে মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশ অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন। এ রায় যথাযথ। সাংবাদিকদের বেতনের অনুকূলে যে আয়কর হয় তা মালিকপক্ষ বা কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের প্রান্তিক সুবিধা (প্রিঞ্জ বেনিফিট) হিসেবে সবসময় পেয়ে এসেছেন। আর বছরে মূল বেতনের সমান দুটি আনুতোষিক বা গ্র্যাচুইটি পাবেন বাসস এর সাংবাদিক-কর্মচারীরা, এটি বাসস আইনেও নিশ্চিত রয়েছে। তাছাড়া প্রাপ্ত সুবিধা  নিয়ে শ্রম আইনের ১৪৯(২) ধারায় নিশ্চায়তা রয়েছে।
সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. নিজামুল হককে নবম সংবাদপত্র ওয়েজবোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়। এ  বোর্ড অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা-পরামর্শের পর ‘নবম সংবাদপত্র ওয়েজবোর্ড রোয়েদাদ’ চূড়ান্ত করে ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর তা তথ্য মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করে। ২০১৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নবম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণা করে সরকার।
সে প্রজ্ঞাপনের সপ্তম অধ্যায়ের ৩ নম্বর শর্তে বলা আছে, ‘সকল শ্রেণির সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থার কর্মরত সাংবাদিক, প্রেস শ্রমিক এবং প্রশাসনিক কর্মচারীদের বেতনের ওপর আরোপিত আয়কর সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদেয় হবে।’ একই অধ্যায়ের ৭ নম্বর শর্তে বলা হয়েছে, ‘সকল শ্রেণির সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থার কর্মরত সাংবাদিক, প্রেস শ্রমিক এবং প্রশাসনিক কর্মচারীরা প্রত্যেক বছরে অথবা তার অংশ বিশেষ ছয় মাস বা এর অধিক সময় চাকরির জন্য সর্বশেষ প্রাপ্ত বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারিত দুই মাসের মূল বেতনের সম পরিমাণ অর্থ গ্র্যাচুইটি হিসেবে প্রাপ্য হবেন।’ অথচ প্রজ্ঞাপনে ‘সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, কার্যকরণ ও প্রয়োগ’ শিরোনামের দ্বাদশ অধ্যায়ের ৪ নম্বর শর্তে মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশ তুলে ধরে বলা হয়, সাংবাদিক, কর্মচারীদের নিজেদের আয় থেকে আয়কর পরিশোধ করবেন এবং বছরে মূল বেতনের সমান একটি গ্র্যাচুইটি পাবেন। নবম ওয়েজবোর্ডের মন্ত্রিসভা কমিটির এই সুপারিশ চ্যালেঞ্জ করে ২০২০ সালের ২৩ নভেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুজ্জামান। তখন রিটটির প্রাথমিক শুনানির পর ওইবছরের ২৫ নভেম্বর আদালত রুল জারি করেন। রুলে আয়কর ও গ্র্যাচুইটি সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশ কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, জানতে চাওয়া হয়েছিল। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্যসচিব ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। সে রুলের চূড়ান্ত শুনানির পর সুপারিশ দুটিকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
#
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat